গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল থানাধীন নয়ানীপাড়া এলাকার ৪১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী সাংবাদিক সূর্য আহমেদ মিঠুন তার পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত জমি জালিয়াতির মাধ্যমে দখলের অপচেষ্টা এবং অবৈধভাবে দলিল সৃষ্টির অভিযোগ এনে গাজীপুর জেলা রেজিস্ট্রারের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীর পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া আর.এস ১১৮২ দাগ ও আর.এস ১৯৯ খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত ৩০ শতাংশ জমির তফসিল ব্যবহার করে টঙ্গী সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দলিল লেখক শ্রী নিরঞ্জন চন্দ্র দাস (দলিল সনদ নং-১৮৩) অবৈধ ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে মেজবাহ উদ্দিন মোল্লার নামে ২১ শতাংশ জমির একটি আম মোক্তারনামা দলিল (নং-১৫৬) ৫ জানুয়ারি ২০১৬ সালে আইন বহির্ভূতভাবে সম্পাদন করে দেন।
ভুক্তভোগীর দাবি, ১৫৬ নং দলিলের বায়া দলিল ১১০৯২ নং দলিলের সঙ্গে জমির তফসিলের কোনো মিল নেই। এছাড়াও ১১০৯২ নং দলিলের বায়া দলিল ২৩৬৮ নং দলিলেও তার পাকিস্তান সরকারের নিকট থেকে প্রাপ্ত ৭৭ শতাংশ জমি, যা পরবর্তীতে ৩০ শতাংশে রূপান্তরিত হয়, তার তফসিলের সঙ্গে হুবহু কোনো মিল পাওয়া যায়নি।
সাংবাদিক সূর্য আহমেদ মিঠুন অভিযোগ করেন, দলিল লেখক শ্রী নিরঞ্জন চন্দ্র দাস, গ্রহীতা মেজবাহ উদ্দিন মোল্লা, দাতা হুমায়ুন কবির এবং সহযোগী হাসান কবির ও বাদল মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পরিকল্পিতভাবে এই জাল দলিল তৈরি করেছেন। এর ফলে তিনি দীর্ঘ ১০ বছর ধরে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক সূর্য আহমেদ মিঠুন বলেন, “আমি গাজীপুর জেলা রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছি। আমার সকল কাগজপত্র, মৌখিক ও লিখিত জবানবন্দি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছি। আমি আশা করি তারা ১৫৬ নং দলিল, এর বায়া দলিল ১১০৯২ এবং ২৩৬৮ নং দলিলের তফসিল যাচাই-বাছাই করলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।”
তিনি আরও বলেন, “এর আগেও মেজবাহ উদ্দিন মোল্লাসহ একটি সিন্ডিকেট টাকার বিনিময়ে তদন্ত প্রভাবিত করে কাগজপত্রের বিপক্ষে দুটি রায় নিজেদের পক্ষে নিয়েছে। আমি আশা করি এবার যেন কোনো সরকারি কর্মকর্তা অসাধু চক্রের অর্থের কাছে বিক্রি না হন এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আমি ন্যায়বিচার পাই।”
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, হুমায়ুন কবিরের ১১০৯২ নং দলিলে সাড়ে আটাশ শতাংশ এবং ১৫/০১/১৯৯১ তারিখে ২১ শতাংশ জমির দুটি জালিয়াতির দলিলসহ মেজবাহ উদ্দিন মোল্লার ১৫৬ নং দলিল এবং পরবর্তীতে সৃষ্ট অন্যান্য দলিল বাতিলের দাবিতে ইতোমধ্যে দেওয়ানি আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক প্রশাসনের নিকট তার পৈত্রিক সম্পত্তি রক্ষা এবং জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।