
নিজস্ব প্রতিনিধি, সোনারগাঁও:
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ঐতিহাসিক পানাম নগরীর প্রবেশদ্বারে ধ্বংস হয়ে যাওয়া প্রাচীন সেতুটি পুনরায় নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে পানাম নগরী এলাকায় সোনারগাঁয়ের ‘ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটি’ এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
কর্মসূচিতে কমিটির আহ্বায়ক কবি ও প্রাবন্ধিক শাহেদ কায়েসের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সাংবাদিক ও লেখক মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সুধীজন, লেখক, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মীরা।
মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাপ্তাহিক সোনারগাঁও পরিক্রমার প্রধান সম্পাদক আরিফুর রহমান, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটির সদস্য সচিব লেখক ও সাংবাদিক রবিউল হুসাইন, যুগ্ম আহ্বায়ক কবি ও সংগঠক রহমান মুজিব, সোনারগাঁও সাহিত্য নিকেতনের সভাপতি আসমা আখতারী, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক কবি মোয়াজ্জেনুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক লেখক মোফাখখার সাগর, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী সোনারগাঁও শাখার সভাপতি লেখক শংকর প্রকাশ, সাংবাদিক বিল্লাল হোসেন, সুমন আল হাসান এবং প্রকৌশলী বাবুল মোল্লা প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পানাম নগরীর প্রধান প্রবেশদ্বারে একসময় একটি ছোট কিন্তু অত্যন্ত নান্দনিক ও ঐতিহাসিক প্রাচীন সেতু ছিল। এই সেতুটি শুধু যাতায়াতের মাধ্যমই ছিল না, বরং এটি পানাম নগরীর স্থাপত্যিক সৌন্দর্য ও ঐতিহাসিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হতো। ২০০১ সালের পর স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল সেতুটি ভেঙে ফেলায় পানাম নগরী তার গুরুত্বপূর্ণ একটি ঐতিহ্য হারিয়েছে।
সেতুটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তারা আরও বলেন, সেতুটির ওপর দাঁড়ালে পানাম নগরীর সারিবদ্ধ প্রাচীন ভবন, চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং ঐতিহাসিক স্থাপত্যের এক অনন্য দৃশ্য একসঙ্গে উপভোগ করা যেত। এটি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ ছিল। সেতুটি ধ্বংস হওয়ার ফলে পানাম নগরীর নান্দনিক সৌন্দর্য ও ঐতিহাসিক পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।
দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল পানাম নগরীর হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের স্বার্থে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, পুরোনো নকশা, নির্মাণশৈলী ও ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রেখে সেতুটি দ্রুত পুনর্নির্মাণ করা জরুরি। এতে পানাম নগরীর ঐতিহাসিক স্বকীয়তা যেমন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে, তেমনি পর্যটকদের আকর্ষণও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
হারিয়ে যাওয়া এই অমূল্য ঐতিহ্য রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও পদক্ষেপ কামনা করেন উপস্থিত সকলে।