
নিজস্ব প্রতিবেদক:
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এরই অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলা জামায়াতের প্রতিনিধি সম্মেলনে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও সদস্য (মেম্বার) পদে দলীয় মনোনীত প্রার্থীদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে।
রোববার (৫ জুলাই) সিদ্ধিরগঞ্জে নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতের কার্যালয় মুঈদ ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে আয়োজিত এ প্রতিনিধি সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আমীর আলহাজ মমিনুল হক সরকার। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাচন কমিটির তত্ত্বাবধায়ক মাওলানা আশরাফুল ইসলাম।
সম্মেলনে পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মুহাম্মাদ শাহজালাল মিয়া (বিএসএস)-কে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তিনি মুহাম্মাদ আলম চাঁন মোল্লার পুত্র এবং পিরোজপুর ইউনিয়নের চেঙ্গাকান্দি গ্রামের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
এছাড়া পিরোজপুর ইউনিয়নের সদস্য (মেম্বার) পদে দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীদের নামও ঘোষণা করা হয়। তারা হলেন—১ নম্বর ওয়ার্ডে মো. আওলাদ হোসেন, ২ নম্বর ওয়ার্ডে মো. মামুনুর রশিদ (বিএ), ৪ নম্বর ওয়ার্ডে মো. দ্বীন ইসলাম, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে মো. আব্দুল মতিন, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ডা. জামান ইসলাম, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে মাসুম মিয়া, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে এমডি আরিফুল ইসলাম বাবু এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ওমর ফারুক।
সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা সেক্রেটারি হাফিজুর রহমান, জেলা সহকারী সেক্রেটারি ও মিডিয়া বিভাগের তদারককারী আবু সাঈদ মো. মুন্না, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল বাকী, সোনারগাঁ উপজেলা (উত্তর) জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমীর অ্যাডভোকেট দেওয়ান মো. খোরশেদ আলম, সোনারগাঁ উপজেলা (দক্ষিণ) জামায়াতের আমীর মো. মাহবুবুর রহমান, কেন্দ্রীয় শিক্ষা ফেডারেশনের অফিস সেক্রেটারি ও জামায়াত মনোনীত উপজেলা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অধ্যাপক ড. আসগর আলী, উপজেলা নির্বাচন কমিটির সদস্য মো. তোফাজ্জল হোসাইনসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সদস্য পদপ্রার্থীরা।
সভাপতির বক্তব্যে আলহাজ মমিনুল হক সরকার বলেন, “গত দুই বছরে দেশের মানুষ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করেছে। জামায়াতে ইসলামী জনগণের সেবার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। চাঁদাবাজি, দখলবাজি, টেন্ডারবাজি কিংবা দুর্নীতির রাজনীতি জামায়াতের আদর্শ নয়। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনে আমরা অংশগ্রহণ করব ইনশাআল্লাহ। জনগণের সমর্থনে ভালো ফলাফল অর্জনের ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। একটি দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠনই আমাদের লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার জনগণের সবচেয়ে নিকটবর্তী প্রতিষ্ঠান। তাই সৎ, যোগ্য, দক্ষ ও জনকল্যাণে নিবেদিত নেতৃত্ব নির্বাচিত হলে জনগণ প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবে। সে লক্ষ্যেই জামায়াতে ইসলামী জনগণের আস্থা অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে এবং আগামী নির্বাচনেও জনগণের রায়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।