
নিজস্ব প্রতিবেদক:-
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের মামরকপুর গ্রামে জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জের ধরে আমরা সেচ্ছাসেবী করোনাযোদ্ধার টিম লিডার সানাউল্লাহ বেপারীর পরিবারের সদস্যদের উপর মারাত্মক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে সানাউল্লাহ বেপারী নিজেও গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়েছেন। এ সময় হামলায় নারীসহ অন্তত ৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। ভিকটিমরা জানায়, আক্রমনকারীরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একদল সম্রাসী অনধিকারে ঘরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও শ্লীলতাহানি করে। গত ৯ জুন (সোমবার) সন্ধ্যায় নিলু বেগম বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগে জানান, প্রতিবেশী আব্দুল কাদের, জুয়েল, তুহিন, শরীফ, ইয়াছিন, আব্দুস সাত্তার, আমান উল্লাহ, কবির হোসেন, শামিম, হাসেম, সাইদুল ও তাদের সহযোগী আরও ৫-৬ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি একত্রিত হয়ে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা লোহার রড, চাপাতি, চাইনিজ কুড়াল, এসএস পাইপসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘরের দরজা-জানালা ভাঙচুর করে প্রায় ৭০-৮০ হাজার টাকার মালামালের ক্ষতিসাধন করে। হামলার একপর্যায়ে নিলুর ভাই খোরশেদ আলম, মোশারফ হোসেন, ছানাউল্লাহ, জানে আলম, তোফাজ্জল হোসেনসহ পরিবারের সদস্যদের এলোপাতাড়ি মারধর ও কুপিয়ে রক্তাক্ত ও নীলাফোলা জখম করা হয়।
এছাড়া হামলাকারীরা নিলুর বোনের গলা থেকে এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয় (যার মূল্য প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা) এবং তাকে শ্রীলতাহানির চেষ্টা করে। এ সময় ভিকটিমদের ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায় এবং যাবার সময় প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহত সাতজনকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পাঁচজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। তারা সকলেই প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করে এবং কোন সেচ্ছাসেবীর সাথে যেন এমন ঘটনার পূনারবৃত্তি না ঘটে তার জন্য সকলকে অনুরোধ করেন।
এ বিষয়ে অভিযোগের তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মফিজুল ইসলাম।