
দেড় মাস ধরে বন্ধ নামজারী
নিজস্ব প্রতিনিধি:-
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর রাজস্ব সার্কেল অফিসে দেড় মাস ধরে নামজারি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে সেবা গ্রহিতারা মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। অফিসের এলআর (লোকাল রিলেশন) ফান্ডের টাকা বন্টন নিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কর্মচারীদের মধ্যে বিরোধের কারণে এই অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।সেবা গ্রহিতারা জানান, নামজারি বন্ধ থাকায় জমির রেজিস্ট্রি কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। অনেকে জমি বিক্রি বা বন্ধক দিতে না পেরে আর্থিক সংকটে পড়েছেন। কেউ মেয়ের বিয়ে, কেউ আবার চিকিৎসার খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। সোনারগাঁ উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই অঞ্চলে ২০২৩ সালে কাঁচপুর রাজস্ব সার্কেল গঠন করা হয়। তখন থেকেই ভূমি সংক্রান্ত কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছিল। কিন্তু বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাইরুজ তাসনিম যোগদানের পর এলআর ফান্ডের অর্থ বন্টন নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। পূর্বে এই ফান্ডের ৫০% এসিল্যান্ড ও ৫০% কর্মচারী ও অফিস খরচ বাবদ ব্যয় করা হতো। কিন্তু ফাইরুজ তাসনিম দায়িত্ব নেওয়ার পর ফান্ডের ৭০% দাবি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কর্মচারীরা এতে আপত্তি জানালে তিনি নামজারি কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। ফলে দেড় মাস ধরে তাঁর আইডি থেকে কোনো “সেকেন্ড অর্ডার” ইস্যু করা হচ্ছে না। একজন নাম প্রকাশ না করা কর্মচারী জানান, “এসিল্যান্ড যোগদানের পর ওমেদারদের অপসারণ করা হয়। এরপর থেকেই টাকার হিসাব নিয়ে বিরোধ। এখন নামজারি বন্ধ, তবে গোপনে কিছু ফাইল টাকার বিনিময়ে নিষ্পত্তি হচ্ছে। সেবা গ্রহীতা হুমায়ুন কবির অভিযোগ করে বলেন, এলআর ফান্ডের টাকা এখন দ্বিগুণ করা হয়েছে। আগে নামজারি করতে আড়াই হাজার টাকা লাগত, এখন পাঁচ হাজার লাগে। মূলজোতের জন্য বিঘা প্রতি ফি ৫ হাজার থেকে বেড়ে ১১ হাজার টাকা হয়েছে।বারদী ইউনিয়নের আব্দুল মজিদ মিয়া জানান, সেপ্টেম্বর মাসে আবেদন করেছি, ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা প্রস্তাব পাঠালেও এসিল্যান্ড সেকেন্ড অর্ডার না করায় ফাইল আটকে আছে। অফিসে ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত। কাঁচপুরের তাহমিনা আক্তার বলেন, ১৪ নভেম্বর মেয়ের বিয়ে। জমি বিক্রি করে খরচের ব্যবস্থা করার কথা ছিল, কিন্তু নামজারি না হওয়ায় ঋণ করে বিয়ে দিতে হচ্ছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাইরুজ তাসনিমের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। ক্ষুদে বার্তাতেও কোনো সাড়া দেননি। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিষয়টি জানা নেই। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নামজারি বন্ধ থাকায় সোনারগাঁয়ের হাজারো সেবা গ্রহীতা এখন চরম ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়রা দ্রুত সমস্যার সমাধান দাবি করেছেন।