
সোনারগাঁ প্রতিনিধি:-
অবশেষে নানা নাটকীয়তার পর নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে (সোনারগাঁও–সিদ্ধিরগঞ্জ) জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী প্রিন্সিপাল ড. ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়ার প্রার্থিতা বহাল থাকছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন জমা দিতে না পারায় তার প্রার্থিতা বাতিল হয়নি।
নেতাকর্মীদের তোপের মুখে অবরুদ্ধ থাকায় নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পৌঁছাতে পারেননি। ফলে সপ্তাহজুড়ে চলা নাটকীয় পরিস্থিতির অবসান ঘটে।
জামায়াত জোটের সমীকরণ ও রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশে ড. ইকবালের প্রার্থিতা নিয়ে পুরো সময়জুড়েই সংশয় ছিল। প্রথমে ১১ দলীয় জোটে থাকার সময় জোটের অন্যতম শরিক ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীকে এই আসন ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। পরে ইসলামী আন্দোলন জোট থেকে বেরিয়ে গেলে খেলাফত মজলিস, খেলাফত আন্দোলনসহ অন্যান্য জোট শরিকদের নাম আলোচনায় আসে। তবে সাংগঠনিকভাবে অপেক্ষাকৃত শক্ত অবস্থানে থাকা জামায়াতের নেতাকর্মীরা শুরু থেকেই আসনটি ধরে রাখার ব্যাপারে আত্মপ্রত্যয়ী ছিলেন।
জানা যায়, ১০ দলীয় জোটের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সোনারগাঁ–সিদ্ধিরগঞ্জ আসন শরিকদের ছেড়ে দেওয়া হতে পারে এমন গুঞ্জনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন সকাল থেকেই ড. ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়ার বাড়িতে অবস্থান নেন নেতাকর্মীরা।
সূত্র আরও জানায়, ১০ দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্র থেকে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ড. ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়াকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী তিনি জেলা আমির মাওলানা মমিনুল হক সরকারের নিকট মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। তবে প্রত্যাহারের আবেদন নিয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে যাওয়ার পথে স্থানীয় নেতাকর্মীরা তাকে অবরুদ্ধ করেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কাছাকাছি তার আইনজীবীর চেম্বারে তালা লাগিয়ে তাকে আটকে রাখা হয়। একপর্যায়ে মাগরিবের নামাজের সময় তালা খুলে দিলে তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন জমা দিতে চাইলে নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হওয়ায় তা গ্রহণ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও রিটার্নিং অফিসার রায়হান কবির বলেন, ড. ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়া বিকেল পাঁচটার পর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন নিয়ে এসেছিলেন। নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হওয়ায় আবেদনটি গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে বিক্ষুব্ধ এক স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নির্বাচনের মাঠ গুছিয়ে এনেছেন এবং স্থানীয় এলাকাবাসীদের সঙ্গে কাজ করেছেন। এখানে জামায়াতের কোনো নেতাকর্মী নয়, আমরা সবাই সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জের ভোটার। দীর্ঘদিন ধরেই আমরা ড. ইকবাল হোসাইন ভূঁইয়াকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি নির্বাচন না করলে আমরা কাকে ভোট দেবো?